মানিকগঞ্জের ঘিওরে দীর্ঘদিন পর বিনা বাধায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা তাদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছে। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বুধবার ৩ (সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
দিনের শুরুতে ঘিওর পাবলিক লাইব্রেরীতে এক পথসভা শুরু হয়। এরপর মানিকগঞ্জ-১ আসনের তিনটি উপজেলা থেকে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমবেত হন।
সকালের উপস্থিতিতে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে স্লোগানের নগরীতে পরিণত হয় ঘিওর উপজেলা। হাতে ব্যানার-ফেস্টুন ও নানান প্ল্যাকার্ড নিয়ে নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে নানান স্লোগান দিতে থাকেন।
২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে বিএনপিকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে নানা সীমাবদ্ধতা ও পুলিশি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এবার নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠান পালিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এই র্যালির নেতৃত্ব দেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ারের হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও আহবায়ক কমিটি সদস্য ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন,দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বিল্টু,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম,ঘিওর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন,ঘিওর উপজেলা কৃষক দলের সহসভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম চান্দু,শিবালয় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি কাজী আব্দুল রাজ্জাক,জেলা ছাত্র দলের সাবেক সদস্য মো. জুয়েল রানাসহ যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাধাহীনভাবে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করতে পারা বিএনপির নতুন জাগরণের প্রতীক। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্দীপনা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু বলেন, আজকের এই দিন আমাদের জন্য গর্বের,আমাদের জন্য উল্লাসের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জনগণের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই অঙ্গীকারকে আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে সমুন্নত রেখেছেন। আজ দেশনেতা তারেক রহমান প্রবাসে থেকেও আমাদের প্রত্যেকটি সংগ্রামে আলোকবর্তিকার মতো দিশা দেখাচ্ছেন।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে গত ১৭ টি বছর আমাদের কোন দলীয় কর্মসুচী ভালোভাবে পালন করতে দেয়নি, আজকের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমান করে মানুষ বিএনপিকে কত ভালোবাসে এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে। আমার পিতা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে আপনারা যেভাবে ভালবেসেছেন তা ছিল অতুলনীয়। আমি হয়তোবা তার মতো হতে পারবো না কিন্তু আমার দ্বারা কোন দুর্নাম হবে না। আমার পিতার আদর্শ নিয়ে আমি আগামী দিনে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আমার দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় আমি আপনাদের নিয়েই এলাকায় উন্নয়ন করতে চাই।
মোঃ ফয়েজ উদ্দিন