হবিগঞ্জে ২৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল। যেখানে হবিগঞ্জ জেলা ছাড়াও ব্রাহ্মন বাড়িয়ার নাসিন নগর উপজেলার ধরমন্ডল ও কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলারসহ বিভিন্ন এলাকার রোগিরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এ সুযোগে দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাসপাতালে উৎপেতে থাকে। তারা সাধারণ রোগিদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে হাতিয়ে নেয় অর্থকড়ি। তাদের কমিশনের বানিজ্যে প্রতিদিন প্রতারণার শিকার হচ্ছে গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা সাধারণ রোগিরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালটি ছিল দালালদের নিয়ন্ত্রনে।
প্রায় ২ ডজন দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিদিন হাসপাতালে আসা-যাওয়া করতেন। গত সকাল মধ্যরাত পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করে রোাগীদের কাছে ঔষধ বিক্রি, বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া ও কমিশনের মাধ্যমে এম্ব্যুলেন্স ভাড়া করাসহ সবকিছুই নিয়ন্ত্রন করে তারা। এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফী, রক্ত পরীক্ষা ও ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে এখন দালালের প্রয়োজন পড়ছে। দালালের দ্বারস্থ না হলে লাল ফিতার দৌরাত্মের মত আটকে থাকছে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সকল সেবা মূলক কার্যক্রম। দালাল ছাড়া কোন কিছুই সেখানে করানো সম্ভব হয়নি।
এতে করে দালালদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারন রোগীরা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগিরা আসেন হাসপাতালে। এতে করে কম টাকায় চিকিৎসার কথা বলে রোগিদের বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেয় দালালরা। খবর নিয়ে জানা গেছে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যাবার বিনিময়ে তারা মোটা অংকের কমিশন নিচ্ছে। এতে করে রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আবার কারো কারো কাছ থেকে দালালরা টাকা নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। সাধারণ রোগীরা ওই সব দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে।
মোঃ ফয়েজ উদ্দিন