আন্দোলন ও বিক্ষোভের পরেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শ্যামা পূজার অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিগত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনের কাছে পূজা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানো হলেও সাড়া মেলেনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান পূজাকে “উত্তর ভারতের সংস্কৃতি” হিসেবে মন্তব্য করেন। অপরদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, পিএইচডি জানান, ক্যাম্পাসে কোনো নতুন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে না।
তবে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে নিয়মিতভাবে দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা ও কালীপূজা অনুষ্ঠিত হতো। করোনা মহামারীর সময় থেকে কালীপূজা বন্ধ হয়ে যায়।
এদিন দুপুরে সাধারণ সনাতনী শিক্ষার্থীদের ডাকে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না; ক্যাম্পাসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য মন্দির নির্মাণ ও পূজা আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে।”
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা শান্ত চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিজ্ঞান অনুষদ ঘুরে উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সনাতনী শিক্ষার্থীরা ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিতে গেলে প্রথমে বাধার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে উপাচার্য বাইরে এসে তাদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং জানান, কালীপূজা বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
ভিসির বক্তব্যের পর বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন— আগামী রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে পূজা ও স্থায়ী মন্দির বিষয়ে আশানুরূপ সিদ্ধান্ত না এলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।